বাংলানিউজমেইল

শিক্ষার্থীদের সমকামিতায় প্রলুব্ধ করার অভিযোগে চিফ ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

অপরাধচিত্র প্রতিবেদক (কুষ্টিয়া): মেকানিক্যাল বিভাগের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান বিপুল কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সমকামিতায় প্রলুব্ধ করার চেষ্টা, একাডেমিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৯ জুলাই অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রশাসনিক কাম-একাডেমিক পরিষদের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে শিক্ষার্থীদের একটি দল অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ভালো নম্বর, ব্যবহারিক পরীক্ষায় সহায়তা এবং অন্যান্য একাডেমিক সুবিধার আশ্বাস দিয়ে সমকামী সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিতেন। কেউ রাজি না হলে নম্বর কমিয়ে দেওয়া, ফেল করিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৮ সাল থেকেও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের অভিযোগ শোনা গেলেও ভয়ের কারণে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে সাহস পাননি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কথোপকথনের স্ক্রিনশট রয়েছে। সেখানে একাডেমিক সুবিধার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। এছাড়া কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশের ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন চিফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) মো. জুনায়েদ চৌধুরী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইন্সট্রাক্টর (টেক/ইলেকট্রনিক্স) মো. আব্দুর রহমান এবং চিফ ইন্সট্রাক্টর (টেক/কম্পিউটার) মো. রবিউল ইসলাম খাঁন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল বিভাগের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান বিপুল কুমার কুন্ডুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চিফ ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) মো. জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, তিন কর্মদিবস তদন্তের সময় দেওয়া হয়েছে। এখনও একদিন সময় রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রাথমিকভাবে কী পেয়েছি, তা বলা সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় চাওয়া হতে পারে।
অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত অধিদপ্তর নেবে।
তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

Related posts

নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উৎকণ্ঠা বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তা: আইজিপি

bangladmin

৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি পেয়েছে বিএসটিআই

bangladmin

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন

bangladmin

সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন শেখ হাসিনা

bangladmin

হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে: উপদেষ্টা জাহেদ

bangladmin

অপতথ্য প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-তুরস্ক: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

bangladmin

Leave a Comment