দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)থেকে /কামাল পারভেজ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ৪১টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক শূন্যতার কারণে উপজেলার প্রাথমিকে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ৫৯টি পূর্ব জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩টিতে, নব্য-জাতীয়করণকৃত ৪১টির মধ্যে ১০টিতে ও ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ৪ টির মধ্যে ১ টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পূর্ব জাতীয়করণের মধ্যে ২৮ জন ও নব্য জাতীয়করণ বিদ্যালয়ে ১৩ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।উপজেলার ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৯ বিদ্যালয়ে মঞ্জুরীকৃত ৫৯ টি অফিস সহায়ক পদের মধ্যে ৬টিতে অফিস সহায়ক পদ শূন্য রয়েছে।অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকদের একটি অংশ প্রশিক্ষণে আছেন। এতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে অন্য শিক্ষকদের। রয়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজকর্মের দায়িত্বও। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যতার কারণে রুটিন মোতাবেক ক্লাস নিতে পারছেন না শিক্ষকরা। তাছাড়া প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় প্রশাসনিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, চিহ্নিত কিছু সহকারী শিক্ষক যারা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের আস্থাভাজন তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না এবং ক্লাসও নেন না। ওই সকল শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে অন্যান্য পেশায় নিজেদের বেশি ব্যস্ত রাখছেন। স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকলে অল্প শিক্ষক দিয়েও চালিয়ে নেয়া সম্ভব। তবে শিক্ষক সংকটের মধ্যে যদি সুবিধাভোগী শিক্ষকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে তবে বিপত্তি বাড়বে ছাড়া কমবে না। আর এর ফলে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দীর্ঘদিন থেকে জনবল সংকট রয়েছে। দৈনদিন কাজ করতে ৩ জন কর্মকর্তা রয়েছেন সেখানে। ফলে দারুণ হিমশিম পোহাতে হচ্ছে তাদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,দোয়ারাবাজার শিক্ষা অফিসে ৯জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে সেখানে মাত্র ৪ জন দিয়ে চলছে যাবতীয় কার্যক্রম। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতেও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। উপজেলার ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ৫৪৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ৯টি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ রয়েছে।

 

এসব পদে রয়েছেন ১ জন উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ৩জন সহকারী শিক্ষা অফিসার, ১ জন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক, ১ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক,, ১ জন হিসাব সহকারী ও ১ জন অফিস সহায়িক। ওই সূত্র আরো জানায়,৯ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। এই সংকটের কারণে দীর্ঘদিন থেকে নানা বিড়ম্বনায় শিক্ষা অফিস কচ্ছপ গতিতে চলছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন কুমার সানা জানান, শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এটা ঠিক। শিক্ষকরা অন্য কোন পেশায় নিয়োজিত আছে কিনা তা আমার জানা নাই।তিনি আরো জানান,অফিসে মাত্র ৪ জন লোক সকল কাজ করতে গিয়ে কে শিক্ষা অফিসার, আর কে অফিস সহকারী তা বাহিরে থেকে বুঝা দায় হয়ে পড়বে। জনবল সংকটের কারণে আমরা নিজেরা দীর্ঘদিন থেকে এই বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।তিনি শূন্য পদগুলোতে দ্রুত লোকবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন

Leave a Response