শেষ ভালোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাপ্তি রেকর্ড

91
দাপুটে পথচলার সিরিজে শেষটায় হাতছানি ছিল দারুণ এক অর্জনের। প্রত্যাশিত জয়ে বাংলাদেশ পেল এতদিনের অধরা সেই স্বাদ। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে। সাদা-রঙিন মিলিয়ে তিন সংস্করণেই প্রথমবার কোনো দলকে এক দফায় হারাল বাংলাদেশ।

শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজ জিতে নিয়েছে ২-০ ব্যবধানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার জিম্বাবুয়েকে ১১৯ রানে আটকে বাংলাদেশ জিতেছে ২৫ বল বাকি রেখে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে একমাত্র টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডেতেও জিতেছে বাংলাদেশ। তিন সংস্করণে এক দফায় একটি দলকে প্রথম হারানোর নজির এটি তো বটেই, সব ম্যাচে জয়ও এলো প্রথমবার।

তিন ওয়ানডে ও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়ে জিতেছে বাংলাদেশ। শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে মাহমুদউল্লাহ নিয়েছেন বোলিং। তাতে বদলায়নি ম্যাচের বাস্তবতা।

জিম্বাবুয়েকে যা একটু টেনেছেন কেবল ব্রেন্ডন টেইলর। ইনিংস শুরু করতে নেমে খেলেছেন ২০ ওভার। একবার জীবন পেয়ে ও আরেকবার সুযোগ দিয়ে করেছেন ৪৮ বলে অপরাজিত ৫৯। তামিম ইকবালকে বিশ্রাম দিয়েও বাংলাদেশের জিততে কোনো বেগ পেতে হয়নি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিটন দাস করেছেন স্ট্রোকের ফোয়ারায় সাজানো অপরাজিত ফিফটি।

মিরপুরের উইকেটে এদিন ছিল খানিকটা তাজা ঘাসের ছোঁয়া। বাংলাদেশ একাদশ সাজায় চার পেসার নিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় প্রতিশ্রুতিশীল পেসার হাসান মাহমুদের।

প্রথম উইকেটের দেখা মেলে পেস বোলিংয়েই। তৃতীয় ওভারে আল আমিন হোসেনকে স্কুপ করে উইকেট বিলিয়ে আসেন টিনাশে কামুনহুকামউই।

পরের ওভারে স্কুপ করতে গিয়ে জীবন পান টেইলর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ওভারেই উইকেটের স্বাদ পেতে পারতেন হাসান। কিন্তু ফাইন লেগে ক্যাচ নিতে পারেননি আল আমিন।

টেইলর আর ক্রেইগ আরভিন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে তোলেন জুটি। তবে দুজনের রানের গতি মেটাতে পারেনি টি-টোয়েন্টির দাবি। ৫৭ রানের জুটি এসেছে ৫২ বলে। ৩৩ বলে ২৯ করে ফিরেছেন আরভিন। টানা তৃতীয় ম্যাচে আফিফ হোসেন উইকেট নিয়েছেন প্রথম ওভারেই!

এই ম্যাচের আগে প্রথম টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও নিজের প্রথম ওভারে দলকে উইকেট এনে দিয়েছিলেন আফিফ। 

এই জুটির পর আর কোনো জুটি ছাড়াতে পারেনি ২০ রান। সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কেউ ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। শূন্য রানে সৌম্যর হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া রাজা করতে পেরেছেন কেবল ১২।

টেইলরই যা একটু বাড়িয়েছেন দলের রান। ৪০ রানে আবার ক্যাচের মতো দিয়েছিলেন, থার্ডম্যান থেকে ছুটে এসে নাগাল পাননি মুস্তাফিজ। ১৯তম ওভারে ফিফটি ছুঁয়ে টেইলর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে যান ৫৯ রানে।

তার পরও জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১১৯। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভার খেলে বাংলাদেশের বিপক্ষে এত কম রানে থমকে যায়নি আর কোনো দল।

টি-টোয়েন্টিতে ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দলের সেরা বোলার ছিলেন আল আমিন। নিজের শেষ ওভারে দুটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। অভিষেকে উইকেট না পেলেও সম্ভাবনার ঝিলিক কিছুটা দেখাতে পেরেছেন হাসান।

রান তাড়ায় বাংলাদেশ অনুমিতভাবেই এগিয়েছে সহজে। লিটনের সামনে জিম্বাবুয়ের বোলিং ছিল অসহায়। মোহাম্মদ নাঈম শেখ খুব সাবলীল ছিলেন না, জায়গায় দাঁড়িয়ে শট খেলার প্রবণতা ছিল বেশি। তবে লিটনকে সঙ্গ দিয়ে গড়ে তুলেছেন জুটি।

৭৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে নাঈমের বিদায়ে। ৫ চারে ৩৪ বলে ৩৩ রান করেছেন তামিমের বিশ্রামে সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার।

সৌম্য সরকারকে নিয়ে বাকি কাজ সেরেছেন লিটন। টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে ৮ চারে ৪৫ বলে ৬০ রানে অপরাজিত লিটন। শেষ দিকে সৌম্যর দুটি ছক্কা দর্শকদের জুগিয়েছে বিনোদনের খোরাক।   

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১১৯/৭ (কামুনহুকামউই ১০, টেইলর ৫৯*, আরভিন ২৯, উইলিয়ামস ৩, রাজা ১২, মুটুম্বামি ১, মুটুমবোদজি ৩, মাধেভেরে ০, মুম্বা ১*; মুস্তাফিজ ৪-০-২৫-২, সাইফ ৪-০-৩০-১, আল আমিন ৪-০-২২-২, হাসান ৪-০-২৫-০, মেহেদি ৩-০-১৪-১, আফিফ ১-০-২-১)।

বাংলাদেশ: ১৫.৫ ওভারে ১২০/১ (লিটন ৬০*, নাঈম ৩৩, সৌম্য ২০*; মাধেভেরে ৩-০-২০-০, এমপোফু ৩.৫-০-২৭-১, মুম্বা ৩-০-২৬-০, সুমা ১-০-১০-০, উইলিয়ামস ৩-০-১৬-০, রাজা ২-০-১৮-০)।

ফল : বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী

সিরিজ : ২ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ : লিটন দাস

ম্যান অব দা সিরিজ: লিটন দাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here