ক্যাসিনো মালিকের আমন্ত্রণ, প্যারাগুয়েতে গ্রেপ্তার রোনালদিনহো

101

দুদিনের নাটক শেষে কাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রোনালদিনহো আর তাঁর ভাই রবার্তোকে

রোনালদিনহো আর তাঁর ভাই রবার্তো কি গ্রেপ্তার এড়াতে পারবেন—দুই দিন ধরে ফুটবল বিশ্বে এমন প্রশ্ন ঘুরেছে। প্যারাগুয়ের স্থানীয় সময় গতকাল সকালে দেশটির সরকারি কৌঁসুলি ফেদেরিকো দেলফিনো রোনালদিনহো-ভক্তদের ভালো খবরই শুনিয়েছিলেন। দেলফিনো বলেছিলেন, রোনালদো আর তাঁর ভাই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় আর সাজা পেতে হবে না তাঁদের। কিন্তু দুদিনের নাটক শেষে কাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রোনালদিনহো আর তাঁর ভাই রবার্তোকে।

রোনালদিনহো আর রবার্তোর গ্রেপ্তার হওয়ার খবরটি দিয়েছে প্যারাগুয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল রাতে তারা টুইট করেছে, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জাল কাগজ (জাল পাসপোর্ট) ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।’ আগামী রোববার রোনালদিনহো আর তাঁর ভাইকে আসুনসিওনের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুয়া পাসপোর্ট বানিয়ে ব্রাজিল ছেড়ে প্যারাগুয়েতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে তাঁদের হোটেলে অভিযান চালিয়ে জাল পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। প্যারাগুইয়ান পরিচয়পত্রও আছে! গত বৃহস্পতিবার হোটেলে তাঁদের জাল পাসপোর্ট জব্দ করলেও পুলিশ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেনি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই ভাই-ই বলেছেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান পাসপোর্ট নিয়েই তাঁরা আসুনসিওনগামী বিমানে উঠেছিলেন। কিন্তু বিমান থেকে নামার পরই তাঁদের ধরিয়ে দেওয়া হয় প্যারাগুয়ের পাসপোর্ট।

রোনালদিনহো আর তাঁর ভাইকে প্যারাগুয়েতে নিয়েছেন সেখানকার এক ক্যাসিনোর মালিক। প্যারাগুয়েতে একটি ফুটবল ক্লিনিকেও যাওয়ার কথা ছিল রোনালদিনহোর। আসুনসিওনের বিমানবন্দরে নাকি পরশুই রোনির জাল পাসপোর্টের ব্যাপারটি ধরা পড়ে। কিন্তু তাঁকে বরণ করতে বাইরে অপেক্ষমাণ জনতার ঢল আর তাঁর প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানগুলোর কথা ভেবে তখন তাঁকে আটকায়নি পুলিশ। অনুষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ শেষ হওয়ার পর কাল তাঁর হোটেলে অভিযান চালানো হয়।

২০০৫ ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদিনহো আর তাঁর ভাইকে ‘ভুল শোধরানোর’ সুযোগ দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন প্যারাগুয়ের সরকারি কৌঁসুলি দেলফিনো। কিন্তু আরেক সরকারি কৌঁসুলি সেটিতে আপত্তি জানানোর পর অ্যাটর্নি জেনারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এমনিতে ব্রাজিলিয়ানদের প্যারাগুয়ে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্টেরই প্রয়োজন পড়ে না। এরপরও কেন প্যারাগুয়ের জাল পাসপোর্ট নিয়েছেন, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি রোনালদিনহো ও আসিস। তবে কাজটা যে তাঁরা ঠিক করেননি, সেটা স্বীকার করেছেন। দেলফিনো বলেছিলেন, তাঁরা (রোনালদিনহো ও আসিস) নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তবে সঙ্গে এ-ও বলেছেন যে এটা তাঁরা অজান্তেই করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here