সুনামগন্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি নেই,

225

কামাল পারভেজ: এ যেনো এক মগের মুল্লুক। সুনামগন্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অতি দরিদ্রদের কর্মসৃজন কর্মসূচির ৪৯টি প্রকল্পের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজই শুরু করা হয়নি।গত ১ জানুয়ারী থেকে ৪৯টি প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা থাকা সত্বেও বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) পর্যন্ত অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি এখনো। কবে নাগাদ শুরু করা হবে, তা এখনো প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা জানেন না।এলাকাবাসীর দাবী ২/১ দিনের ভিতরে জমিতে বোর ধান রোপন শুরু হবে তখন প্রকল্পের কাজের মাটি পাওয়া যাবেনা এই অজুহাতে প্রকল্পের টাকা হরিলুট করার পায়তারা চলছে।


দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ত্রাণ ও পূর্ণবাসন মন্ত্রণালয় প্রথম পর্যায়ে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচীর অধীনে ৯ ইউনিয়নে ৪৯টি প্রকল্পে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৪হাজার টাকার বিপরীত ১৫৩৮ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।


১নং বাংলাবাজার ইউনিয়নে ৭টি প্রকল্পে ২১০জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে, উস্তিংগেরগাও পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,বাংলাবাজার হইতে ভোলাখালী পর্যন্ত পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় হইতে আননপাড়া ঈদগা মাঠ পর্যন্ত পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,বৃটিশ পয়েন্ট হইতে বাংলাবাজার পর্যন্ত পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,আলমখালী মসজিদ হইতে হকনগর বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ৬০জন শ্রমিক ৪লক্ষ ৮০ হাজার টাকা,বাংলাবাজার হইতে ঘিলাতলী নদীর ব্রীজ পর্যন্ত পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,মৌলানদীর ব্রীজ হইতে হকনগর বাজার পর্যন্ত পাকা রাস্থার উভয় পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা।বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মাষ্টার জানান দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। ।


২নং নরসিংপুর ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে ২২০জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে,খাইরগাও চাইরগাও যোগাযোগ রাস্থার মোড় হইতে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত মাটি ভরাট এবং নাছিমপুর-সোনাপুর সোনাপুর যোগাযোগ রাস্থার মাটি ভরাট ৫০জন শ্রমিক ৪লক্ষ টাকা,নরসিংপুর গরুর বাজার মাটি ভরাট ও ঘিলাছড়া মসজিদ হইতে পাকার মোড় পর্যন্ত মাটি ভরাট ৪৫জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৬০ হাজার টাকা,রাকিব-বারেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ৫০জন শ্রমিক ৪লক্ষ টাকা,সিরাজপুর গ্রামের বড় রাস্থার পাকার মোড় হইতে তবারক মড়লের বাড়ী পর্যন্ত মাটি ভরাট ৩৭জন শ্রমিক ২লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা,শ্যামারগাও ব্রিজের পূর্ব সাইট হইতে পাকার মোড় পর্যন্ত ভরাট ও রহিমের পাড়া ব্রীজের সাইট ভরাট এবং উত্তর শ্রীপুর মুজেফরের বাড়ী হইতে রশিদের বাড়ি পর্যন্ত মাটি ভরাট ৩৮জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৪ হাজার টাকা।নরসিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমেদ জানান ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩টি শেষ করেছি ১টি চলমান আর ১টি আগামীকাল শুরু করা হবে।


এছাড়া ৩নং দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে ১৩৮জন শ্রমিকের বিপরীতে ১১ লক্ষ ৪হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে,নৈনগাও হিন্দুপাড়ার রাস্থায় মাটি ভরাট ৩২জন শ্রমিক ২লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা,পরমেশ্বরীপুর বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের মসজিদের পিছনে কবরস্থানে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,পশ্চিম মাছিমপুর নছরের বাড়ি হইতে মখনের বাড়ী ভায়া লতিফের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ৩১জন শ্রমিক ২লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা,গুচ্ছ গ্রাম হইতে মাদ্রাসা ভায়া গোলাম কাদিরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থায় মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা।দোয়ারাবাজার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ বারী জানান ৫টি প্রকল্প থেকে ৩টি চলমান ২টি খুব শীঘ্রই শুরু করা হবে।


এছাড়া ৪নং মান্নারগাও ইউনিয়নে ৭টি প্রকল্পে ১৯০ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৫ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে,শ্যামলবাজার বাধ মেরামত ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,আজমপুর ক্লাবঘর হইতে উত্তরমুখী রাস্থা মেরামত ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,জালালপুর শাহজালাল মসজিদ হইতে মুক্তার আলীর বাড়ীমুখী রাস্থা নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,গোপালপুর মাদ্রাসা হইতে সাউদেরগাও মুখী রাস্থা মেরামত ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,রামপুর আতর আলীর বাড়ী হইতে নুর ইসলামের বাড়ী মুখী রাস্থা নির্মাণ ৪৪জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৫২ হাজার টাকা,ছাতক-সুনামগঞ্জ রাস্থা হইতে যোগীরগাও বরকতের বাড়ী মুখী রাস্থা মেরামত ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,বদরপুর দক্ষিণপাড়া মসজিদের পেছন হইতে মোড়ামুখী রাস্থা মেরামত ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা।মান্নারগাও ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজরে সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


৫নং পান্ডারগাও ইউনিয়নে ৬টি প্রকল্পে ১৮০ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে,মঙ্গলপুর বাজার হইতে সাবাজ আলীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্থার দুই পার্শে মাটি ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,সোনাপুর আজমান আলীর বাড়ি হইতে ফরিদের বাড়ী হইয়া ব্রীজের মুখ পর্যন্ত রাস্থা পূনঃনির্মাণ ৩০জন শ্রমিক ২লক্ষ ৪০ হাজার টাকা,পান্ডারগাও প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে সোহেলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা পুনঃনির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,নলুয়া আব্দুস ছুবহানের বাড়ী হইতে মসজিদের রাস্থা পুনঃনির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা।শ্রীপুর বাজার ষ্ট্যান্ড হইতে পলিরচর ইলিয়াসের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থায় মাটি ভরাট ৩২জন শ্রমিক ২লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা,পান্ডারখাল ব্রীজের মুখ হইতে নতুন নগর হান্নানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থায় মাটি ভরাট ৪৩জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।পান্ডারগাও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদও জানান খুব শ্রীগ্রই শুরু করা হবে।


তাছাড়া ৬নং দোহালিয়া ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে ১৭৪জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে,দোয়ারা খেয়াঘাট পাকা রাস্থা মসজিদের পিছন হতে আবুল হোসেন মাজন এর বাড়ী পর্যন্ত এবং পানাইল পুরান পাড়া নতুন ব্রীজের মুখ পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ৪২জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা,খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার সামনে হইতে দক্ষিণ মুখী নিয়ামতপুর পুল এবং নিয়ামতপুর জামে মসজিদের আঙ্গিনায় মাটি ভরাট ৩৮জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৪ হাজার টাকা,প্রতাবপুর গ্রামের পশ্চিমের অংশে ও দক্ষিনের পাকা রাস্থা হইতে উত্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রীজ পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ এবং চৌমুনা পশ্চিম পাড়া মসজিদের আঙ্গিনায় মাটি ভরাট ৩১জন শ্রমিক ২লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা,করলিয়া মিনা বাজারের সামন হয়ে উত্তর মুখী গুপ্ত মানিক বিলের পূর্ব অংশে কাদির মোল্লার বাড়ী সংলগ্ন সামনের কালভাট পর্যন্ত রাস্থা মেরামত ৩৮জন শ্রমিক ৩লক্ষ ৪ হাজার টাকা,পানাইল দক্ষিন পাড়া অসক এর বাড়ীর পশ্চিম সীমা হইতে নকুল বাবুর বাড়ীর সামনের সাকুঘাট পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা।দোহালিয়া ইউপি জানান কাজী মোঃ আনোয়ার মিয়া আনুর সাথেও যোগাযোগ করা হলে তিনিও কল দিলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


৭নং লক্ষীপুর ইউনিয়নে ৬টি প্রকল্পে ১৭০ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে,এরুয়াখাই আব্দুর রহিমের বাড়ীর রাস্থা ও রসরাই হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশ্বের গর্ত ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,ইদ্রিসপুর গ্রামের বেড়ীবাঁধ হইতে টিলা পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,মাঠগাও ফারুকের দোকানের পাশ্বের ভাঙ্গা হইতে ইসলামপুর গ্রামের রাস্থার বিভিন্ন ভাঙ্গা ভরাট ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,রনভুমি রশিদের বাড়ী হইতে হাজীগঞ্জ এরশাদের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,মাঠগাও জামে মসজিদের মাঠ ভরাট ও ভাংগাপারা গ্রামের রাস্থা নির্মাণ ৩৭জন শ্রমিক ২লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা,রসরাই কাশেমের বাড়ী হইতে হাবিবুরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা।লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক জানান ৬টি প্রকল্পের কাজই চলমান আছে।


৮নং বগুলা ইউনিয়নে ৩টি প্রকল্পে ১০৬জন শ্রমিকের বিপরীতে ৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে ,আছিরনগর আব্দুল জলিলের বাড়ী হইতে আব্দুস সালামের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা পুনঃ নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,কাঠালবাড়ি মেইনরাস্থা হতে উকিলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা নির্মাণ ২৫জন শ্রমিক ২লক্ষ টাকা,বডারহাট হতে শাহজাহানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা পুনঃ নির্মাণ ৫৬জন শ্রমিক ৪লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা।বগুলা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল জানান দ্রুগ শুরু করবো।


৯নং সুরমা ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পে ১৪৬জন শ্রমিকের বিপরীতে ১১ লক্ষ ৬৮ হাজার তাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে ,গিরিসনগর রাজুর বাড়ী দুলুর বাড়ী পর্যন্ত রাস্থায় মাটি ভরাট ২৯জন শ্রমিক ২লক্ষ ৩২ হাজার টাকা,রাজনপুর আয়নালের বাড়ী হইতে গিরিসনগর আবুল কাশেমেরবাড়ী হয়ে গিরিসনগর দেলুর দোকান পর্যন্ত মাটি ভরাট ৩০জন শ্রমিক ২লক্ষ ৪০ হাজার টাকা,মামুনপুর বশির ডাক্তারের বাড়ী হইতে বরকতনগর শফিকুল ইসলামের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থা মেরামত ২৯জন শ্রমিক ২লক্ষ ৩২ হাজার টাকা,বৈঠাখাই মোশাহিদের বাড়ী হইতে বৈঠাখাই বাজার পর্যন্ত রাস্থায় মাটি ভরাট ২৯জন শ্রমিক ২লক্ষ ৩২ হাজার টাকা,টেংরাটিলা জয়নালের বাড়ী হইতে আব্দুল করিমের বাড়ী হয়ে সেলিমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্থায় মাটি ভরাট ২৯জন শ্রমিক ২লক্ষ ৩২ হাজার টাকা।সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশিদ জানান ৫টি প্রকল্প থেকে ৩টি প্রকল্পের কাজ চলমান ২টি প্রকল্প খুব শ্রীগ্রই শুরু করা হবে।


দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে অর্থ বরাদ্ধ আসলেও অধিকাংশ প্রকল্প সভাপতি এবং প্রকল্প এখনো তালিকা প্রণয়ন হয়নি বলে জানা গেছে। এপ্রসংগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম আম্বিয়া জানান,কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বাকি প্রকল্পের কাজ খুব শিগগিরই শুরু করার জন্য বলা হয়েছে।প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে না করলে বিল দেয়া হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here