সুস্থ থাকতে হলে জানতে হবে

ইউরিনে ইনফেকশন পরিচিত একটি সমস্যা। গরমের সময়ে এ সমস্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সাধারণত পুরুষের তুলনায় এই অসুখের প্রবণতা নারীদের বেশি। আর আমাদের দেশে বিভিন্ন অসুখের জীবাণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক জ্ঞানের অভাবে বেড়ে যায় ইউরিন ইনফেকশনের মাত্রা। এ বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের গ্যাসট্রোএন্টোরোলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এন এম সাইফুল্লাহ্ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইউরিন ইনফেকশনের প্রধান সমস্যাগুলো হলো—

১.  জননতন্ত্রের ইনফেকশন।

২.  দীর্ঘ সময় যাবৎ মূত্র ত্যাগ না করা বা আটকে রাখা।

৩.  একবার ইউরিনে ইনফেকশন হলে আবারও হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হয়।

৪.  যাঁরা পানি খুব কম খান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারেন না, দিনের পর দিন এ সমস্যা চলতেই থাকলে, তাঁদের ইউরিনে ইনফেকশন হয়।

     ইউরিনে ইনফেকশনের জন্য দায়ী প্রধান ব্যাকটেরিয়া হলো ই কোলাই। এই ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলী ও খাদ্যনালিতে থাকে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে গেলে এই ব্যাকটেরিয়া জননতন্ত্রে বাসা বাঁধতে পারে। একজন নারী বা পুরুষ সঠিক সময়ে মূত্র ত্যাগ না করে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে, তখন ই কোলাই দ্রুত আক্রমণ করে।

৫.  বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পরে ক্যাথেটার (মূত্র নির্গমনের জন্য দেওয়া বিশেষ ধরনের নল) দেওয়া থাকে। ক্যাথেটার দীর্ঘদিন থাকলে এবং সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলেও ইউরিনে ইনফেকশন হয়। যাঁদেরকে ডায়াপার পরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়, তাঁদেরও এ সমস্যা হতে পারে।

৬.  একাধিক নারী-পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বসবাস, অতিরিক্ত নোংরা টয়লেট ব্যবহার করা, নিয়মিত গোসল না করা, যৌন রোগে আক্রান্ত বা রোগীদের ইউরিনে ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি।

৭.  কিডনি বা জননতন্ত্রের কোথাও পাথর থাকলেও এ সমস্যা হয়।

লক্ষণগুলো

১.  হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর বা জ্বর জ্বর লাগা, কোমরের দুই পাশে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, প্রস্রাবে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া, চুলকানো।

২.  দুর্গন্ধময় প্রস্রাব। অনেক সময় ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হয়। সঠিকভাবে না-ও হতে পারে।

৩.  অনেক সময় মূত্রের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।

৪.  ঊরুর দুই কোনাতে ব্যথা থাকতে পারে।

প্রতিকার

১.  আমাদের নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, পুষ্টিকর খাবার, মৌসুমি ফল খেতে হবে।

২.  ঘুমানোর আগে মূত্র ত্যাগ করে ঘুমাতে হবে।

৩.  নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পরিধেয় বস্ত্র, বাসস্থান, টয়লেট পরিচ্ছন্ন হওয়াটা জরুরি।

৪.  যাদের কিছুদিন পর পর ইউরিনে ইনফেকশন হয়, তাঁরা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫.  ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৬.  যাঁরা অতিরিক্ত ঘেমে যান, তাঁরা নিয়মিত লিটার পানি পান করুন।

৭.  সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জনগণের কল্যাণে টয়লেট স্থাপন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *