নথিতে ভোগ্যপন্য, বাস্তবে খালী কন্টেইনার ! বড় চোরাচালানের আশংকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঘোষনাপত্রে ছিলো চকলেট, কফিমেট আর মিনারেল ওয়াটার। অথচ কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স চ্যালেন্জ করে সেই কন্টেইনার খুলে কিছুই পায়নি। পুরো কন্টেইনার খালী। ঘটনাটি ঘটেছে পানগাও নদীবন্দরে। কাস্টমস  গোয়েন্দারা জানান বন্দর জেলা নারায়নগন্জের পানগাও বন্দরে বিপুল পরিমান অবৈধ মালামাল  এসেছে বলে তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে।  ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর সিঙ্গাপুর থেকে একটি কন্টেইনার আসে পানগাও নদী বন্দরে। আমদানীকারক জমজম কর্পরেশনের নামে পন্য আমদানীর সহযোগীতা করেন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এমএস পরসাইয়া। যেখানে ঘোষনা দেয়া হয় কন্টেইনারে কফিমেট, চকলেট, এবং মিনারেল ওয়াটারের।

কিন্তু কাস্টমস গোয়েন্দারা ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর বিশ ফুট লাম্বার সাড়ে ছয় টন ওজনের কন্টেইনার খোলার জন্য চ্যালেন্জ করলে বন্দর কতৃপক্ষ কন্টেইনার খোলার জন্য কাস্টমস কতৃপক্ষকে গড়িমসি করতে থাকে। পরবর্তীতে এই বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারী আবারও কাস্টমস কতৃপক্ষ কন্টেইনারটি খুলে কাস্টমস গোয়েন্দাদের দেখানোর জন্য বলাহয়। কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারনা ছিলো এই কন্টেইনারে অবৈধ সোনা বা সিারেগট চোরাচালন হতে পারে। পরবর্তীতে পানগাও বন্দর কতৃপক্ষ কন্টেইনার খুলে দেখাতে অস্বীকৃতি জানায় পানগাও নদীবন্দ কতৃপক্ষ্।

পরবর্তীতে পানি অনেক দূর গড়ালে ২৬ মে পানগাও বন্দর কতৃপক্ষ জমজম কর্পরেশনের কন্টেইনারটি খুলতে রাজি হয়। কিন্তু খুলে কন্টেইনারের ভেতরে কিছুই পায়নি শুল্ক গোয়েন্দারা। শুল্ক গোয়েন্দা কতৃপক্ষের দাবী পানগাও বন্দর কতৃপক্ষের যোগসাজসে এই কন্টেইনারের যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায় আমদানী কারক জমজম কর্পরেশন। কারন সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে রপ্তানীর সময় কন্টেইনারের গেটে যে নাম্বার দেয়া ছিলো কন্টেইনারটি খোলার সময় সেই আমদানীর নাম্বারের মিল নেই। তাতেই স্পস্টহয় যে এখানে চোরাচালানের মত বড় একটা ঘটনা ঘটেছে।

এই বিষয়ে  পানগাও নদীবন্দর কতৃপক্ষের জিএম ক্যাপ্টেন সারোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এই বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ কথা বলতে পারবে।  চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ওমর ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  জানান,  আমদানী ঘোষনা দেয়ার পরেও কন্টেইনারের ভেততে কোনো ধরনের মাশরামাল না থাকা এটা নতুন কিছু নয়। অনেক সময় অনেক অসাধু ব্যাসায়ী মানিলন্ডারিংয়ের জন্য এই জাতীয় ঘটনা ঘটানোর চেস্টা করে এবং বন্দর কতৃপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। জমজম কর্পরেশনের পানগাও বন্দরে যদি এই জাতীয় ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবে তারা।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান যে বা যার যারাই অভিযুক্ত কন্টেইনার থেকে মালামাল সরিয়ে  নিকনা কেনো তদন্তের পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে শুল্কগোয়েন্দা কতৃপক্ষ।

Leave a Response