আমাজন বাঁচাতে ডিক্যাপ্রিওর ৫০ লাখ ডলারের তহবিল

দাবানলে জ্বলতে থাকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজনকে রক্ষায় ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও।

আমাজন বাঁচাতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-সেভেন যে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, হলিউডের এই তারকার ঘোষিত অঙ্ক তার এক-চতুর্থাংশ।

পরিবেশবাদী ডিক্যাপ্রিও তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান আর্থ অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে আমাজন রক্ষার তহবিল জোগাবেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

জি সেভেন ব্রাজিলসহ আমাজনকেন্দ্রিক দেশগুলোকে ২ কোটি ডলার দিলেও ডিক্যাপ্রিও ৫০ লাখ ডলার কোনো সরকারকে দেবেন না।

পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে লিওনার্দোর দেওয়া অর্থ পাবে সেখানকার কিছু স্থানীয় সংগঠন ও আদিবাসী গোষ্ঠী, যারা এই বনের মূল রক্ষক বলে মনে করেন তিনি।

কো-অর্ডিনেশন অফ দ্য ইনডিজিনাস অর্গানাইজেশনস অফ দ্য ব্রাজিলিয়ান আমাজনসহ আরও ৪টি সংগঠন পেতে যাচ্ছে এই অর্থ সহায়তা।

সপ্তাহ পেরিয়েও নেভানো যায়নি আমাজনের আগুন; যা নিয়ে উদ্বেগ চলছে বিশ্বজুড়ে। কারণ  বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা এই আমাজনের।

ব্রাজিলের আমাজোনাস ও রোনডোনিয়া রাজ্যের বনে লাগা আগুনের ধোঁয়া দুই হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে সাও পাওলোতে পৌঁছানোর পর গত ১৯ অগাস্ট বিকাল ৩টার সময় শহরটি ঘণ্টাখানেকের জন্য ডুবে ছিল অন্ধকারে। গত শনিবার ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লিওনার্দো বলেন, “আমাজন নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই ঘটনা জলবায়ুর ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য আর আদিবাসীদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে ছন্দপতন ঘটাবে।”

আমাজনে আগুন নেভানো, বনের সুরক্ষা এবং উজাড় হয়ে যাওয়া বনাঞ্চলকে আবারও অরণ্যে পরিণত করার কথা চিন্তা করে জনগণকে আর্থিক সহায়তা করার আহ্বানও জানান এই হলিউড অভিনেতা।

১৯৯৮ সালে দ্য লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও ফাউন্ডেশন (এলডিএফ) প্রতিষ্ঠার পর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণে আরও দুজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ বছর জুলাইয়ে আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলেন আর্থ অ্যালায়েন্স। 

তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “আমাজন রেইনফরেস্টের এই ধ্বংস বায়ুমণ্ডলে দ্রুত কার্বন ডাইঅক্সাইড যোগ করছে; বিনষ্ট করছে বাস্তুসংস্থান, যা শুষে নিত প্রতি বছর নির্গত বিষাক্ত কার্বন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সহায় ছিল এই বন। ”

ব্রাজিল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ৭৫ হাজার দাবানলের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলের বনে। ২০১৩ সালের পর থেকে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজারের কম।

দাবানলের এই ঘটনায় পরিবেশবাদীদের তোপের মুখে পড়েন ব্রাজিলের কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো। আগুনের ভয়াবহতা এবং তা নিয়ে ব্রাজিল সরকারের রীতিমত উদাসীনতায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ফেইসবুক লাইভে এসে আগুন লাগার পেছনে উল্টো এনজিওদের হাত থাকার দাবি করেন বোলসোনারো।

Leave a Response