অনিরাপদ শহরের তালিকায় ঢাকা

বিশ্বের নিরাপদ শহরগুলোর তালিকায় গতবারের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এরপরও ৬০ শহরের এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান তলানিতেই, ৫৬তম।

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর গবেষণা শাখা দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘নিরাপদ শহর সূচক-২০১৯’ প্রকাশ করেছে। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ সূচক প্রকাশ করা হলো। ২০১৫ সালে প্রথম এই সূচক প্রকাশ করে ইআইইউ। এরপর দ্বিতীয় প্রকাশনাটি ছিল ২০১৭ সালে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, অবকাঠামো নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—এই চার ক্যাটাগরিতে ৫৭টি অনুসূচকের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত
করেছে দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৬০টি বড় শহরকে নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী, সার্বিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ পাঁচ শহর হলো যথাক্রমে জাপানের রাজধানী টোকিও, সিঙ্গাপুর, জাপানের বন্দরনগরী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ওসাকা, নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি। সার্বিকভাবে সবচেয়ে কম নিরাপদ পাঁচ শহর হলো যথাক্রমে ঢাকা, পাকিস্তানের করাচি, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বড় শহর লাগোস।

এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে ঢাকার অবস্থান ৬০ শহরের মধ্যে ৫৭তম। অর্থাৎ এই শহর এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে কম নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও ঢাকা ৫৭তম অবস্থানে রয়েছে। চার ক্যাটাগরির মধ্যে অবকাঠামো নিরাপত্তায় ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এই ক্যাটাগরিতে ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে ঢাকার অবস্থান ৫৫তম।

নিরাপদ শহর সূচক-২০১৭-এ সার্বিকভাবে ঢাকার অবস্থান ছিল ৬০ শহরের মধ্যে ৫৮তম। সেবার ডিজিটাল নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে ঢাকার অবস্থান ছিল ৫৮তম। আর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে ৫৯তম, অবকাঠামো নিরাপত্তায় ৬০তম এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ৪৩তম অবস্থানে ছিল ঢাকা। সেদিক থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তায় ঢাকার সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে ধস নেমেছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তায়। দুই বছরে এই ক্যাটাগরিতে ঢাকার অবনতি ঘটেছে ১২ ধাপ।

এনইসি করপোরেশনের অর্থায়নে ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট এই নিরাপদ শহর সূচক (এসসিআই) প্রকাশ করছে। এতে শহরগুলোয় নিরাপত্তা বিধান ও এর ফলাফলের মাপকাঠি বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। 

সূচকের সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে বর্তমানে মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশের বেশি শহরাঞ্চলে বসবাস করছে। ২০৫০ সাল নাগাদ এই হার বেড়ে ৬৮ শতাংশে দাঁড়াবে। অর্থাৎ ধারণার চেয়েও বেশি গতিতে নগরায়ণ হচ্ছে বিশ্বে। এই নগরায়ণের হার সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। তবে নগরায়ণের চ্যালেঞ্জগুলো যদি মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে অর্থনৈতিকসহ নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নগর ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে মানুষের জীবনমান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে বাসিন্দা, ব্যবসা ও ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা বিধানে শহরগুলোর সক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠবে।

Leave a Response